Logo
Logo
×

রাজধানী

মেরাদিয়ায় অবৈধ হাটের কারণে চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০৬:২৪ পিএম

মেরাদিয়ায় অবৈধ হাটের কারণে চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা

রাজধানীর রামপুরা থানাধীন মেরাদিয়ায় অবৈধভাবে হাট বসিয়ে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর রামপুরা থানাধীন মেরাদিয়ায় অবৈধভাবে হাট বসিয়ে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। এই টাকার একটিও পায়না ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসি) বা ঢাকা জেলা প্রশাসক। প্রায় ১০ বছর ধরেই ডিএসসিসি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থাকা হাটবাজারের তালিকায় মেরাদিয়া হাটের নাম নেই। অবৈধ হাট বসানোর স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি বুধবার মেরাদিয়ায় হাট বসিয়ে সুবিধাভোগীমহল চাঁদাবাজ লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করে থাকে। বাড়ির মালিকদের অনুমতি ছাড়া বাড়ীর গেটে এবং সামনে জোর-জবরদস্তিকরে দোকানের চকি, ভ্যান ইত্যাদি  বসানো হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। বাসার সামনে দোকান বসানোতে বাধা দিলে হাটের চাঁদাবাজ লোকজন বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়, গালিগালাজ করে, অনেক সময় বাসার দারোয়ান বা কেয়ারটেকারদের মারধর করে। 

সাপ্তাহিক অবৈধ হাটের কারনে কারণে জরুরী প্রয়োজনে গাড়ী বা যানবাহন বাসা থেকে বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ অসুস্থ হলে রোগীর গাড়ী বের করা অথবা অ্যাম্বুলেন্স ডাকলে তা বাড়ির কাছে আনা সম্ভব হয় না। হাটের দিন হাটের চাঁদাবাজ লোকজন বাসার গেটের সামনে দোকান বসিয়ে অনেক সময় বাসা থেকে হাটের দিন গাড়ী বের করতে দেয় না।

সিটি কর্পোরেশন তেকে হাটের অনুমোদন না থাকায় পরিত্যক্ত ময়লা, পলিথিন, প্লাস্টিক ইত্যাদি বর্জ্য রাস্তা ও বাসাবাড়ীর সামনে যত্রতত্র ছড়ানো থাকে যা পরিষ্কার করার কেউ থাকে না। সরকারি কোন দপ্তর ওই ময়লা পরিস্কারের দায়িত্ব নেয় না। হাটবারের দিন এলাকায় চুরি, ছিনতাই বেড়ে যায়। বাসাবাড়িতে 

বাড়িতে চুরি হয়। হাটে পকেটমার, মোবাইল চুরি, মেয়েদের গলার চেইন কানেরদুল চুরি-ছিনতাই হয়। নেশাখোরদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে এলাকার বাসিন্দাগণ নিরাপত্তাহীনতায় দিনতি পাত করেন। সিটি কর্পোরেশনের তালিকাভুক্ত হাট না হওয়ায় এই হাটে কোন গণশৌচাগার নাই। যার কারণে হাটের লোকজন যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করে পরিবেশ দূষিত ও পূঁতিরগন্ধময় করে তুলেছে। সাপ্তাহিক হাটের কারনে রামপূরা-বনশ্রী-ডেমরা লিংক রোড এ ভয়াবহ যানজট দেখা দেয়। মহাসড়কে চলাচল করা গাড়িগুলি প্রবেশ করে এলাকার বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। 

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় একটি চক্র দক্ষিণ বনশ্রী এইচ ও জে ব্লক এভিনিউ রোড, এম ব্লক মেইন রোড, এইচ ব্লকের ৪ নম্বর সড়েকের কিছু অংশে হাট বসায়। চাঁদাবাজরা রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। 

বুধবারের সাপ্তাহিট হাট ছাড়াও মেরাদিয়া বাজার থেকে আড়ং পর্যন্ত (জে-ব্লক ও এম-ব্লক এভিনিউ রোড) প্রতিদিন শতশত রিক্সাভ্যান এর উপর অস্থায়ী বাজার বসানো হয়। এতে এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়। বর্তমানে এই সড়কে রোডে স্কুল, ব্যাংক, সুপারশপ, বিভিন্ন স্বনামধন্য দেশী ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্যের দোকান, ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল, ডিআইজি টুরিস্ট পুলিশ ও পিবিআই (মেট্রো দক্ষিণ) এর কার্যালয় রয়েছে। অবৈধ হাট ও বাজারের কারনে রাজউক অনুমোদিত একটি অভিজাত আবাসিক এলাকা ধীরে ধীরে একটি ময়লার বাগাড়ে পরিনত হচ্ছে।   

এছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ বনশ্রী মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন জি, এইচ, জে, এম এবং এন ব্লকের বাসিন্দাদের আবাসিক ও ব্যাক্তিগত বাড়ীর সামনে প্রতি বছর কোরবানী ঈদ এর সময়ে অস্থায়ী গরুরহাট বসার কারনে আমরা অত্র এলাকার বসিন্দাগণ  বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।  গরুর হাট চলার সময় হাটের ইজারাদার ও গরুর বেপারীরা বিভিন্ন বাড়ির সামনে, বাসার গেটের সঙ্গে গরু ছাগল বেঁধে রাখে। পিচ ঢালাই রাস্তা খুড়ে বাঁশ পুতে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেভ। গরুর মলমূত্র পরিস্কারের ব্যবস্থা না থাকার জন্য রাস্তার উপর, বসত বাড়ীর সামনে স্তুপ হয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব 

অত্র এলাকার স্থায়ী এবং অস্থায়ী বাসিন্দাগণ প্রতি বুধবারের এই অবৈধ হাট ও প্রতি বছর গরু-ছাগলের  হাটের ইজারার কারনে মানসিক এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই অবৈধ হাট ও বাজারের কারনে রাজউক অনুমোদিত একটি অভিজাত আবাসিক এলাকা ধীরে ধীরে একটি ময়লার আস্তাকুড়ে পরিনত হচ্ছে।  বনশ্রী আবাসিক এলাকার লোকজনের মানসিক ও শারিরীক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এবং বাসিন্দারে নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্র বুধবারের হাট সহ সকল অস্থায়ী বাজার এবং কোরবানীর সময়ে অস্থায়ী গরু-ছাগলের হাটটি অত্র এলাকা থেকে অবিলম্বে অপসারনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরী। 

বনশ্রী আবাসিক এলাকার জি, এইচ, জে, এম এবং এন ব্লক ও দক্ষিন বনশ্রী সহ মেরাদিয়া মৌজাস্থ মেরাদিয়া কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকাটি ডিএসসিরি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ও খিলগাঁও থানার অন্তর্ভূক্ত। অত্র এলাকায় হলি ক্রিসেন্ট স্কুল, ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইন্সটিটিউট, কচি কণ্ঠ স্কুল, ঢাকা নার্সিং কলেজসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। হলি ক্রিসেন্ট স্কুল, ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইন্সটিটিউট, কচি কণ্ঠ স্কুল, ঢাকা নার্সিং কলেজ ইত্যাদি মিলে প্রায় তিন হাজার ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত করে। প্রতি বুধবার হাটের দিন ভোর হতে হাটের দোকানদারদের চৌকি ও দোকান বসানোর কারনে সকাল হতেই অত্র এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হয়। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা হাটের দিন ভিড়ের মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে রিকশা এবং অন্যান্য বাহনের সাথে ধাক্কা লেগে আহত হওয়ার মত ঘটনাও রয়েছে। এছাড়া ইয়ামাগাতা হাসপাতাল, ফেমাস হাসপাতাল, ফরাজী ডেন্টাল হাসপাতাল, নজরুল ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। হাসপাতালের রোগীদেরও যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়। 

এবিষয়ে জানতে চাইলে খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, হাট বসানোর জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

হাটের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদ হোসেন বলেন, ‘বহু বছর থেকেই বুধবারে মেরাদিয়ায় সাপ্তাহিক হাট বসে। স্থানীয়রা ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে কেনা-কাটা করে। স্থানীয়দের সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে তারা মেয়রের কাছে অভিযোগ দিতে পারে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগের চিন্তা ২৪ কর্তৃক প্রকাশিত
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন