Logo
Logo
×

সারাদেশ

ঢাকার নদ-নদী ও খাবার পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি

Icon

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:৫৪ পিএম

ঢাকার নদ-নদী ও খাবার পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি

ঢাকার পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ‘পিফাস’ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা ও এর আশেপাশের পোশাক শিল্প, নদ-নদী ও খাবার পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পিফাসের (পার-পলিফ্লুরোঅ্যালকিল) উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পোশাক শিল্প থেকে নির্গত বর্জ্য পিফাস দূষণের অন্যতম কারণ। কলের পানি ও পোশাকেও উচ্চ মাত্রার পিফাসের উপস্থিতি রয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) রাজধানীর লালমাটিয়ায় পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (এসডো) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন তুলে ধরে। এসডো ও আইপেন-এর যৌথ গবেষণায় ঢাকা ও তার আশেপাশের শিল্প এলাকায় থেকে সংগৃহীত পৃষ্ঠ ও কলের পানির নমুনায় উচ্চ মাত্রার বিষাক্ত পিফাস রাসায়নিক পাওয়া যায়। অনেক নমুনায় পিফাসের পরিমাণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসের নির্ধারিত মাত্রার অনেক উপরে ছিল। এর মধ্যে কিছু নমুনায় নিষিদ্ধ পিফাসের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজন। জনগণের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত নিয়ন্ত্রণ সংস্থাসমূহকে পিফাস দূষণ নির্মূল ও হ্রাসের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

পিফাস বা পার-পলিফ্লুরোঅ্যালকিল হল মানুষের তৈরি এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা এর স্থায়িত্ব এবং পানি, তেল, এবং তাপ প্রতিরোধের জন্য পরিচিত।

পিফাস পরিবেশে সহজে ভাঙে না এবং প্রাণীর শরীরে স্থায়ীভাবে জমা হতে পারে, এর ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে এই রাসায়নিক পদার্থগুলো বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খাল-বিল, নদী-নালাতে চলে আসছে এবং আমাদের খাবার পানিতে মিশে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে পিফাস নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই, তাই এই গবেষণার ফলাফল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ৩১টি পৃষ্ঠের পানির নমুনার মধ্যে ২৭টিতে পিফাস পাওয়া গেছে।

পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (এসডো) সিনিয়র পলিসি ও টেকনিক্যাল উপদেষ্টা এবং গবেষণা দলের প্রধান ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এ গবেষণায় আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ও পানিতে পিফাসের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশের ওপর পিফাস-এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সুপারিশ প্রদান করা।

যুগের চিন্তা ২৪ কর্তৃক প্রকাশিত
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন