Logo
Logo
×

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর, হতে পারে ১৪ চুক্তি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর, হতে পারে ১৪ চুক্তি

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার (২১ জুন) দেশটির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। একইভাবে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ফলে সফরটিতে একে অপরের প্রতি প্রগাঢ় বন্ধুত্বের নিদর্শন প্রকাশ পাচ্ছে।

শনিবার (২২ জুন) ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়-এর সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি। শনিবারই দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচী

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, এদিন দুপুর ২টায় বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানে দিল্লি রওনা হয়েছেন শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। শনিবার শেখ হাসিনাকে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেয়া হবে। এরপর তিনি রাজঘাটে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পরিদর্শন বইয়ে সই করবেন।

পরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। সেখানেই প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা এবং দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই এবং চুক্তি বিনিময় হবে। ওই দিন বিকেলে ভারতের উপরাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর রাষ্ট্রপতি ভবনে সাক্ষাৎ শেষে রাতেই ঢাকা ফিরবেন তিনি।

কতগুলো চুক্তি?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার এই সফরে ১২ থেকে ১৪টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এর মধ্যে যেসব চুক্তি বা সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেগুলোর কয়েকটি নবায়ন করা হবে। তবে এই বৈঠকে বেশি গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তার বিষয়টি। মিয়ানমার পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা এবং মনিপুরে সংকট, এই অঞ্চলে চীনের প্রভাবসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হবে।

এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টাও বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। দেশের বাজারে ভারতের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘দুই দেশই নিজেদের মধ্যে থাকা সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। তাই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে এই নিয়েও আলোচনা হবে।’

তিস্তা নিয়ে নতুন প্রস্তাব

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধি নিয়েও আলচনা হবে এই বৈঠকে। সেই সঙ্গে অভিন্ন নদী এবং তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় তুলবেন প্রধানমন্ত্রী। তিস্তা নিয়েও এই বৈঠকে নতুন কিছু নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তির বিষয়টি যে পর্যায়ে আছে তাতে খুব তাড়াতাড়ি ইতিবাচক কিছু ঘটবে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। তবে আশার কথা হচ্ছে, তিস্তা ঘিরে উন্নয়ন প্রকল্প বা সংরক্ষণের বিষয়ে সম্প্রতি ভারত আগ্রহ দেখাচ্ছে।’ তিস্তা প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করতেও আগ্রহী দেশটি। তাই ভারতের পক্ষ থেকে তিস্তার ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দেয়া হতে পারে।

যুগের চিন্তা ২৪ কর্তৃক প্রকাশিত
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন