Logo
Logo
×

জাতীয়

এনবিআরের প্রথম সচিব ফয়সালের শ্বশুর-শাশুড়ির নামে ১৮ ব্যাংক হিসাব

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ১২:৫৩ পিএম

এনবিআরের প্রথম সচিব ফয়সালের শ্বশুর-শাশুড়ির নামে ১৮ ব্যাংক হিসাব

এনবিআরের প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে ১৮টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি টাকা জমা হওয়া এবং পরে তার বড় অংশ উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া দুদকের নথি বলছে, ফয়সালের শ্বশুর আহম্মেদ আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। তাঁর শাশুড়ি মমতাজ বেগম পেশায় গৃহিণী। দুদক বলছে, ফয়সাল ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিজের ও স্ত্রীর নামে রাখার পাশাপাশি স্বজনদের নামেও রেখেছেন। শ্বশুর ও শাশুড়ির নামের ব্যাংক হিসাবে যে অর্থ লেনদেন হয়েছে, তা ফয়সালেরই অপরাধলব্ধ আয়।

দুদকের নথি অনুযায়ী, ফয়সাল ও তাঁর ১১ স্বজনের নামে ১৯টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮৭টি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির ব্যাংক হিসাবে। দুদক আদালতে জানিয়েছে, ফয়সাল তাঁর অপরাধলব্ধ আয় লুকানোর জন্য স্বজনদের নামে ৭০০টির মতো ব্যাংক হিসাব খুলেছিলেন। এর মধ্যে দুদক ৮৭টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে।

ফয়সাল ২০০৫ সালে বিসিএস (কর) ক্যাডারে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। তিনি বর্তমানে এনবিআরের আয়কর বিভাগের প্রথম সচিব (ট্যাক্সেস লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছর দুদক ফয়সালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে গত বৃহস্পতিবার ফয়সাল ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পদের বিবরণী আদালতের কাছে তুলে ধরে।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফয়সাল ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে ৫ কাঠার দুটি প্লট, শ্বশুরের নামে থাকা ঢাকার রমনা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট, খিলগাঁওয়ে শাশুড়ির নামে ১০ কাঠার প্লট জব্দ এবং ৮৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন।

দুদকের প্রতিবেদন ও আদালতের আদেশের বিষয়ে ফয়সালের বক্তব্য জানতে গতকাল শুক্রবার তাঁর ঢাকার রমনার বাসায় যাওয়া হয়। বাসার নিরাপত্তারক্ষী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁরা বাসায় নেই। এদিকে ফয়সালের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

দুদকের নথিতে ফয়সালের শ্বশুর আহম্মেদ আলীর ঠিকানা দেওয়া হয়েছে খুলনার খালিশপুরের একটি বাড়ি। প্রথম আলোর খুলনা প্রতিনিধি উত্তম মণ্ডল বাড়িটি খুঁজে পান গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে। তিনি গিয়ে দেখতে পান বাড়িটির মূল ফটক বন্ধ। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর একজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে নিজেকে বাড়ির ভাড়াটে পরিচয় দেন। তিনি নিজের নাম বলেন অগাস্টিন দাস।

অগাস্টিন দাস বলেন, আহম্মেদ আলীর পরিবার বাড়িটির দোতলা ও তিন তলায় থাকেন। তাঁদের কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন।

যুগের চিন্তা ২৪ কর্তৃক প্রকাশিত
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন