Logo
Logo
×

জাতীয়

রাজউক পরিচালক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক মামলা

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম

রাজউক পরিচালক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক মামলা

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মোবারক হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-২) মোবারক হোসেন ও তার স্ত্রী সাহানা পারভীনের নামে আলাদা দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ কমিশনের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মামলাটি দুটি করেন।

মোবারক হোসেন রাজউকের সাবেক অথরাইজ অফিসার। তার গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা থানার ভেড়ামারা হাটগ্রামে। তিনি ঢাকার উত্তরায় থাকেন।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি জানান, রাজউকের পরিচালক মোবারক হোসেন দুদকে জমা করা সম্পদ বিবরণীতে নিজের নামে স্থাবর ও অস্থাবরসহ মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য থাকার ঘোষণা করেন। যাচাইকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় করে জমা করা সম্পদের সত্যতা পাওয়া যায়। 

আরও জানা যায়, এই সম্পদের বিপরীতে চাকরিকালীন বিভিন্ন খাত থেকে আয় পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছাড়া সঞ্চয় ও ঋণ গ্রহণসহ মোট বৈধ উৎসের পরিমাণ পাওয়া যায় ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ২০৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য বৈধ উৎসের চেয়ে অতিরিক্ত ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৫ টাকা আয়ের কোনো বৈধ ও গ্রহণযোগ্য উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। আসামি অসাধু উপায়ে অর্জিত ও তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৫ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে, তা ভোগ দখলে রাখায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। 

অপরদিকে মো. মোবারক হোসেনের স্ত্রী সাহানা পারভীন নামে করা মামলার এজাহারে বলা হয়— বিবরণীতে তিনি নিজ নামে ৬০ লাখ ৯০ হাজার ৫৬০ টাকা মূল্যের স্থাবর, ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭০১ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্যসহ সর্বমোট ১ কোটি ৯৯ লাখ ৭৫ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য জমা করেছেন। সাহানা পারভীনের নামে বর্ণিত সময়ে আয় থেকে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে, নিট সঞ্চয়সহ অন্যান্য বৈধ প্রাপ্তিসহ মোট বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৪১ লাখ ২ হাজার ১০৯ টাকা। 

এ ক্ষেত্রে আসামি সাহানা পারভীন জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৫২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ভোগ দখলে রাখার সত্যতা পাওয়া যায়। 

মামলার এজাহারে বলা হয়— প্রকৃতপক্ষে সাহানা পারভীন স্বামী মো. মোবারক হোসেন, রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-২) অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত এই সম্পদ অর্জন করেছেন। সুতরাং আসামি সাহানা পারভীন ও তার স্বামী মো. মোবারক হোসেন পরস্পর যোগসাজশে, একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে দেড় কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ভোগ দখলে রাখেন। 

অপরাধলব্ধ অর্থ দ্বারা উভয়ে একে অন্যের সহায়তায় মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়।

যুগের চিন্তা ২৪ কর্তৃক প্রকাশিত
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন