Logo
Logo
×

জাতীয়

সেলে নিস্কির ‘হানি ট্র্যাপে’ নিজেই ধরা দেন আজিম

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১১:০৪ পিএম

সেলে নিস্কির ‘হানি ট্র্যাপে’ নিজেই ধরা দেন আজিম

সেলে নিস্কি ওরফে সেলেস্তি রহমান। ছবি : সংগৃহীত

ভয়ংকর এক ‘হানি ট্র্যাপে’র শিকার হয়েছেন কলকাতায় নিহত ঝিনাইদহের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার। সেলে নিস্কি ওরফে সেলেস্তি রহমান নামে এক তরুণীকে দিয়ে পাতা হয় সেই মনোহর ফাঁদ, যাতে পা দিয়ে শেষ অবধি জীবন হারাতে হয়েছে এই সংসদ সদস্যকে। 

চিকিৎসার নামে তার হঠাৎ ভারতে যাওয়ার নেপথ্যে ছিল এই তরুণীর সঙ্গলাভের প্রলোভন। আনার হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সন্দেহে উঠতি এই মডেলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কোনো সংসদ সদস্য দেশের বাইরে গেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে তা অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আনার হঠাৎই ভারতে যান। তিনি সংসদ সচিবালয় বা স্পিকারকে বিষয়টি অবহিত করেননি। 

ধারণা করা হচ্ছে, সেলে নিস্কিকে দিয়ে পাতা ‘হানি ট্র্যাপ’-এর প্রলোভনে সাড়া দিতেই তিনি তাড়াহুড়া করে কলকাতায় যান এবং সেখানে ঘাতক বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হন। যে ফ্ল্যাটে তিনি খুন হয়েছেন, সেখান থেকে কলকাতা পুলিশ ব্যবহৃত জন্মনিরোধক সামগ্রী ও যৌন উত্তেজক বড়িসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে।

ডিবি পুলিশের প্রধান হারুন-অর রশীদ জানান, এমপি আনারকে হত্যার পেছনে সেলে নিস্কি নামে এই নারীর ভূমিকা রয়েছে। হত্যার আগে তাকে হানি ট্র্যাপ করা হয়েছিল কি না সেটা তদন্ত করা হচ্ছে। ১৩ মে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় ওই নারী ঘটনাস্থলে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেলে নিস্কিকে ভারতে নিয়ে যান।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আনারকে হত্যার জন্য প্রায় দুই মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। তার অংশ হিসেবে শাহীনের গুলশান-২ নম্বর এলাকার ফ্ল্যাটে ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এ-ব্লকের ফ্ল্যাটে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়। সেসব বৈঠক থেকে এমপি আনারকে হানি ট্র্যাপে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় ঘাতকরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার উত্তরায় বসবাসকারী সেলে নিস্কি ওরফে সেলেস্তিকে ‘ভাড়া’ করেন শাহীন। ২০ বছর বয়সি এই তরুণীর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর এলাকায়।

সূত্র থেকে জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কলকাতার নিউ টাউনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেন আক্তারুজ্জামান। গত ৩০ এপ্রিল সেলে নিস্কি ও আমানুল্লাহ সাঈদ ওরফে শিমুলকে নিয়ে কলকাতায় যান তিনি। পেশাদার কিলার শিমুল পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। কলকাতায় গিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী সিয়াম, মোস্তাফিজ ও ফয়সালকে ভাড়া করেন শাহীন। ১০ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানে থেকে যান আমানুল্লাহ ও সেলে নিস্কি। ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৩ মে দুপুরে সেলে নিস্কির ফোন পেয়ে গোপাল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বের হন আনার। ওইদিন বেলা ১টা ৫১ মিনিটের সময় আনার যখন নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেন্সের ৫৬ বিইউ নম্বরের ট্রিপ্লেক্স ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন তখন খুনিদের সঙ্গে সেলে নিস্কিও ছিলেন। ভবনে প্রবেশ করে তিনি অবস্থান নেন তৃতীয় তলায়। নিচতলায় আনারকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার কিছু সময় পর তার লাশ কয়েক খণ্ডে ভাগ করে ফেলা হয়। দুর্গন্ধ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য ঘাতকরা সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেয়। 

সেলে নিস্কি নিচে নেমে কিসের গন্ধ জানতে চাইলে শিমুল তাকে জানান, সেখানে একজন বমি করেছে, তাই ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়েছে। সেদিন ওই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে সেলে নিস্কি কলকাতার বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে অবস্থান করেন। এক দিন সেখানে থেকে ১৫ মে ফ্লাইটে শিমুলের সঙ্গে ঢাকায় ফেরেন। ঢাকায় আসার পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এ-ব্লকে শাহীনের ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন সেলে নিস্কি। কিলিং মিশন বাস্তবায়ন হওয়ার খুশিতে ১৫ মে পার্টি দেন শাহীন। সেই পার্টিতে সেলে নিস্কি উপস্থিত ছিলেন। এর এক দিন পর সেলে নিস্কি ও আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

জানা যায়, সেলে নিস্কি মূলত শাহীনের বান্ধবী। বলা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শাহীন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী এবং পেশায় ঠিকাদার। দেশে তার কয়েকশ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ চলছে। এরই মধ্যে শাহীনের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে একটি ডায়েরি জব্দ করা হয়েছে। হত্যাকারীদের নাম-পরিচয় সামনে আসার আগেই ভিস্তেরা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চড়ে দিল্লি ও কাঠমান্ডু হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান শাহীন।

যুগের চিন্তা ২৪ কর্তৃক প্রকাশিত
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন