বিএনপি ক্ষমতায়ে এলে শিক্ষার্থীদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক : মেজর হাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১১ পিএম

ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন দাবি করেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র ছিল এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র এতে জড়িত থাকতে পারে। এ ঘটনায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিন আহমেদ ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না।”
তিনি বলেন, “বিদ্রোহের সময় বাংলাদেশি গণমাধ্যমের কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিবেদন পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছিল। একজন সাংবাদিক বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের পক্ষ নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কল্পকাহিনি প্রচার করেছিলেন। অথচ সামরিক আইন অনুযায়ী, বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরাও অভিযুক্ত হন। কিন্তু পিলখানায় থাকা বিডিআর সদস্যরা কেন বিদ্রোহ ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেননি, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিন আহমেদ তার সহযোদ্ধাদের বাঁচানোর উদ্যোগ না নিয়ে কেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেন, সেটি বোধগম্য নয়। বিদ্রোহ দমনের জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা স্পষ্ট করে যে আমাদের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহিদ সেনা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। অবশেষে বর্তমান সরকার এটি স্বীকৃতি দিয়েছে, যা প্রশংসনীয়।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক আত্মরক্ষায় দক্ষ হবে। তাই বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রতিবাদ এবং ছাত্রদের আন্দোলন বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্বদরবারে বৃদ্ধি করেছে। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই সেই সকল ছাত্র ও অভিভাবকদের, যারা রাজপথে নেমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করেছেন।”