Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলছে সরকার

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:১৭ পিএম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলছে সরকার

আজ অবধি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা যেকোনো সংকট ও প্রয়োজনে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেননি। ছবি : সংগৃহীত

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬ দফা ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণের সাঁকো। ৬ দফা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু নিজেই মন্তব্য করেছিলেন, ‘সাঁকো দিলাম, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উন্নীত হওয়ার জন্য।’ এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে পুলিশ। স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা যেমন অগ্রগণ্য, তেমনি দেশ স্বাধীনের পর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের নিরাপত্তায় নিরলস কাজ করছে এই বাহিনী। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা যেকোনো সংকট ও প্রয়োজনে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেননি। এই বাহিনীর কল্যাণে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকায়, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে উন্নত রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে। আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকায় দেশে তৈরি হয়েছে বড় বড় অবকাঠামো। এসেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার এই পুলিশ বাহিনী সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত ও জাতির পিতার আদর্শে উদ্দীপ্ত একঝাঁক চৌকস পুলিশ কর্মকর্তার কল্যাণে। 

কোনো দেশের পুলিশ বাহিনীকে যথাযথ মূল্যায়নের যে কয়টি ‍সূচক ব্যবহৃত হয় তার সবক’টিতেই সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষকদের সার্বিক পর্যবেক্ষণে অপরাধ ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নসহ সামগ্রিক সূচকে সাফল্যের মাত্রাকে ঈর্ষণীয় বলা যায়। অপরাধ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের গড় অর্জন প্রায় ৯০ শতাংশ। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অপরাধের অনুসন্ধান, মামলার তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের মতো মৌলিক পুলিশি কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারেও প্রায় শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে পুলিশ বাহিনী। বিশ্লেষক মহল মনে করছে, পুলিশের আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নেতৃত্বে এক ঝাঁক চৌকস মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা এই সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর। 

এই চৌকস কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. আতিকুল ইসলাম, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অতিরিক্ত আইজি বনজ কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত আইজি ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি ও সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া, র‌্যাবের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশীদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি হাইওয়ে পুলিশের প্রধান মো. শাহাবুদ্দিন খাঁন, শিল্প পুলিশের প্রধান মো. মাহবুবুর রহমান, টুরিস্ট পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি মীর রেজাউল আলম, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার লুৎফুল কবির, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম, ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদসহ অনেকে। 

পুলিশের সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতেৃত্বে একটি স্মার্ট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। চ্যালেঞ্জটা অনেক কঠিন। দেশের জন্য, দেশ থেকে উগ্রবাদ নির্মূলের জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থাকাতেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষেণ অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশ বর্তমানে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে অপরাধ ব্যবস্থাপনায়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চাইলে আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উন্নত-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, সেদিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর্থ-সামাজিক উন্নতি ঘটেছে। এর সুফল আমরা সবাই ভোগ করছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। দুর্বার গতিতে এই দেশ এগিয়ে চলেছে। আগে কোনো মামলা তদন্ত করতে হলে সোর্সের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তদন্তসংক্রান্ত আধুনিক প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জামাদির সংযোজন ও জনবল বৃদ্ধিসহ সবকিছু মিলে তদন্তে আমরা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি, পুলিশ এখন ৯৫ শতাংশ ‘আনডিটেক্টেড’ মামলার তদন্তও সফলভাবে সম্পন্ন করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও পুলিশ সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে। এ ছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং, ৯৯৯-সহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট জনমানুষের আস্থা অর্জন করেছে। মামলার তদন্তে মৌখিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক সাক্ষ্য ব্যবহার উৎসাহিত করার বিষয়ে পুলিশ সফল হয়েছে। গোয়েন্দাভিত্তিক পুলিশিং উৎসাহিত করা হচ্ছে। অপরাধপ্রবণ ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার, চরমপন্থা প্রভৃতি অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। ক্রাইম সিন সংরক্ষণ ও ক্রাইম সিন ভ্যান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। স্পর্শকাতর মামলার সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য সহায়তার দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে। সাজার হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সফল হয়েছে। অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) চালু করা হয়েছে। 

আইজিপি আরও বলেন, ‘এই ভূখণ্ডে পুলিশ প্রায় ১০০ বছরের ওপর দায়িত্ব পালন করে আসছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে আসছি। ধরুন, একসময় খুলনা অঞ্চল সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। সেই নীতির আলোকে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে ভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ দেশের মানুষকে সেবা দিয়ে গর্বিত হতে চায়। এবার আমরা স্লোগান দিয়েছি ‘দেশ সেবাই আমাদের আনন্দ, সেবাই আমাদের উৎসব।’ সেই সেবাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে আমরা কাজ করছি।

পুলিশ বাহিনী নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই জন্যই জেগে থাকি, যাতে নগরবাসী শান্তিতে ঘুমাতে পারে। বর্তমানে অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে। দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল প্রতারণার ক্ষেত্রও বেড়েছে। স্মার্ট সিটিজেনের মধ্যে যেমন স্মার্ট অপরাধী পড়ে, সেখানে স্মার্ট পুলিশও পড়ে। আমরাও স্মার্ট পুলিশ হিসেবে তৈরি হচ্ছি। আমাদের অত্যাধুনিক সাইবার ল্যাব, স্পেশালাইজড সাইবার টিম প্রতিনিয়ত আধুনিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের প্রশিক্ষণ আধুনিক করা হচ্ছে। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বিদেশ থেকেও আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল আমরা হব জনগণের পুলিশ। আমরা এখন জনগণের পুলিশ হতে পেরেছি। থানা হলো পুলিশের দর্পণ। থানাগুলো প্রতিনিয়ত মনিটরিংয়ের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। এমনকি থানায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে আমার দরজাও খোলা রয়েছে। আমরা থানার কার্যক্রমকে সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসছি। মেসেজ টু কমিশনারের দুটি নম্বর আছে, যেখানে থানায় কেউ কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন।’

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় প্রতিটি সদস্য তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। এ কাজের ক্ষেত্রে কারও কারও ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে। সেটি আমাদের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংশোধন করা বা ক্ষেত্রবিশেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যারা ভালো কাজ করছেন তাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য নিজ নিজ ইউনিটের মাধ্যমে পুরস্কৃত করারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব নানামুখী পদক্ষেপে পুলিশের সফলতার হার বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধ সূচকের ধাপগুলো হচ্ছে অপরাধ ব্যবস্থাপনা, প্রসিকিউশন, ভীতি হ্রাস করা, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন ও সহিংস চরমপন্থি দমন। সবক’টিতে পুলিশ সফল হয়েছে। পুলিশে অপরাধ ব্যবস্থাপনায় প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাঠানোর পদ্ধতি চালু এবং আদালতে সাক্ষী হাজির করা বিশেষ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির করার ক্ষেত্রে পুলিশ সাফল্য অর্জন করেছে। বড় সভা-সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কার্যকর করেছে।’ 

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের সব পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে জঘন্য অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে সময়ে সময়ে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে পুলিশ সফল হয়েছে। সমাজে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এমন ধরনের সংবাদ খুব বেশি প্রচার না করতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক ও অন্যদের প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও সফলতা দেখিয়েছে পুলিশ। অবৈধ মাদকদ্রব্য ব্যবহার মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কার্যকর আভিযানিক পরিকল্পনা প্রস্তুত, বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ে পুলিশের কার্যক্রমে সফলতা এসেছে। মাদক উৎপাদনের উৎস, সরবরাহ চেইন চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সফলতা অর্জন হয়েছে। মানব পাচার রুট চিহ্নিত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আদালতে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সাইবার ক্রাইম নির্মূলে সিআইডি, পিবিআই, সিটিটিসি এবং সব মেট্রোপলিটন পুলিশের চৌকস কর্মকর্তাদের (নিবেদিতপ্রাণ) অফিসারপুল তৈরি করা হয়েছে। পেশাদারির সঙ্গে মানি লন্ডারিং ও সাইবার ক্রাইম মামলার তদন্তে সফলতা এসেছে। সহিংস চরমপন্থা দমনে সক্ষমতা বেড়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট সোয়াত, স্নাইপার, বোম্ব ডিসপোজাল এবং কে-নাইন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। চরমপন্থা বা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ডি-র‌্যাডিকালাইজেশন এবং পাল্টা মতবাদ/ব্যাখ্যা তৈরি এবং সামাজিক পুনর্বিন্যাস কর্মসূচি করে সফলতা দেখিয়েছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইনে র‌্যাডিকালাইজেশন নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় কৌশল তৈরি করা হয়েছে। 

এদিকে হাইওয়ে পুলিশ হাইওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সূচকে মহাসড়ক থেকে অবৈধ ও নিষিদ্ধ যানবাহন অপসারণের পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিরাপদ বাহনের ধারণা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী, মালিক, চালক, চালকের সহকারী ও মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে সফল হয়েছে। 

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ প্রধান মো. সাহাবুদ্দিন খাঁন বলেন, হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের বডিওন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে সফলতা এসেছে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগে সফলতা এসেছে। বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করে দুর্ঘটনা হ্রাসের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়ক ব্যবহার করে চোরাচালান ও মাদক পাচার বন্ধ, অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহন মহাসড়ক থেকে অপসারণ করা হয়েছে। 

পুলিশে পেশাদারত্ব ও আন্তরকিতা বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজি ও সিআইডি পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ‘পুলিশ এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যারা মূলত জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে। থানা থেকে শুরু করে পুলিশের যেকোনো সদস্য যেখানেই থাকুক প্রত্যেকেই নিজেদের অবস্থান থেকে পেশাদারত্বের সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবসেবায় নিরলসভাবে কাজ করে। তবুও পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের অনেক অভিযোগ। আমি বলব, ভালো-মন্দ সবখানেই আছে। ব্যক্তির অপরাধ কখনও প্রতিষ্ঠানের ওপর আসতে পারে না। পুলিশের কোনো সদস্য ব্যক্তিগতভাবে অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তদন্ত করা হয়। এটির জন্য পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, পুলিশ একমাত্র বাহিনী যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে। ‍এজন্য পুলিশকে কখনও কখনও দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাও ডিউটি করতে হয়। পুলিশের ভালো কাজের মূল্যায়ন কম করা হলেও পুলিশ তার দায়িত্বটি পালন করে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য কখনও কিছু পাওয়ার আশায় দায়িত্ব পালন করে না।

মামলার তদন্তে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। এই ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পুলিশের কাজটি একটি আবেগের কাজ। এখানে ভালো কাজ বলতে, যা বোঝায় এটাই মূলত পুলিশের আসল কাজ। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলে কাজ করবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এখন কথা হলো, কাজ করতে গেলে প্রশংসা ও সমালোচনা দুটিই থাকে। ভালো কাজের প্রশংসা যেমন পাবে তেমনি কোনো কাজের জন্য সমালোচনাও শুনতে হবে। আর সেই সমালোচনাকে এড়িয়ে পুলিশকে তার নিজের কাজটি সম্পূর্ণ পেশাদারত্বের সঙ্গে করে যেতে হবে। তাহলেই পুলিশ জনমুখী বা জনগণের পুলিশ হিসেবে খ্যাতি এমনিতেই পাবে।’

তিনি আরও বলেন, অনেকেই পুলিশকে নানাভাবে উপাধি দেয়। যেমন মানবিক পুলিশ, কেউ বলে অমানবিক পুলিশ। কিন্তু আমি বলব পুলিশ শুধুই পুলিশ। তার কাজ কী তা বলা আছে। পুলিশ তার কাজটিই করবে। এখানে মানবিক পুলিশ বা অমানবিক পুলিশ বলার সুযোগ নেই। মানুষকে তার সঠিক সেবাটুকু দিলেই পুলিশ জনগণের আস্থার বাহিনী হিসেবে পরিচিতি পাবে।

ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার অপহরণ ও হত্যা মামলাসহ বহু ক্লুলেস মামলার তদন্তে সফলতা দেখিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন-অর-রশীদ বলেন, আমরা এখন অনেক ক্লুলেস হত্যা মামলা ও অপরাধের তদন্তে সফল হয়েছি। সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আমরা দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পেরেছি। এ ছাড়া মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিসিএমএস) এবং অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (আফিস) ব্যবহার করা হয়েছে। 

পুলিশের সফলতা তুলে ধরে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শত বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। মহান মুক্তিযুদ্ধকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তৎকালীন পুলিশের বাঙালি সদস্যরা আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেই থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা যেকোনো প্রয়োজনে এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেদের জীবনও বিসর্জন দিয়েছে। একটা সময়ে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের নগ্ন থাবায় দেশবাসী চরম উৎকণ্ঠিত ছিলেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছিল চরমপন্থি সন্ত্রাসের জনপদ। বাংলাদেশ পুলিশ এই জনপদকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। একইভাবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পুলিশ দেশবাসীর সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্বে ‘রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত। 

তারা আরও মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়; যেকোনো মানবসৃষ্ট কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে কখনও পিছপা হয়নি। করোনা অতিমারিকালে বাংলাদেশ পুলিশের অকুতোভয় বীর সদস্যরা জীবন বিপন্ন করে জনগণের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে সেবার মানসিকতা নিয়ে মানবিক পুলিশ হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।

পুলিশের মূল কাজটি হলো যেকোনো সময়ে সেটি অসময়ে হোক আর সুসময়ে হোক সব সময়ই মানুষের জীবনযাপন থেকে শুরু করে উদযাপন; সবক্ষেত্রেই সেবা প্রদান করা। সহযোগিতা প্রদানের সতীর্থ হিসেবে কাজ করা। পুলিশের স্বরূপটা এ রকমই। বাংলাদেশ পুলিশও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন সব জায়গায় পুলিশ এ শিক্ষাই গ্রহণ করে এবং কর্মক্ষেত্রে তার প্রতিফলন ঘটনায়। তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সমৃদ্ধির যতগুলো সোপান পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রতিটি সোপানে বাংলাদেশ পুলিশেরও অবদান রয়েছে সবার সঙ্গে। এই মন্ত্রেই বাংলাদেশ পুলিশ দীক্ষিত। 

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নূরুল ইসলাম বলেন, আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই। স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্যে স্মার্ট পুলিশ দুর্বার গতিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। 

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে স্বীকৃত রোল মডেল। জঙ্গিবাদ দমনে সিটিটিসির সাফল্যই বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। অন্য এজেন্সিগুলো, যারা জঙ্গিবাদ নিয়ে কাজ করে সবারই ভূমিকা আছে। তবে আমি মনে করি সিটিটিসির অবদান অনেক বেশি। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ দেশ। দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। বড় কোনো হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই। ফলে গত চার বছরে দেশে কোনো জঙ্গি হামলা হয়নি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সাফল্য অনেক। যে কেউ বিপদে পড়লে সবার আগে পুলিশের সাহায্য চায়। অনেকে পুলিশের সেবা নেয়। পরে আবার তারাই পুলিশ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। অথচ বাংলাদেশ পুলিশ মামলার তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ প্রায় প্রতিটি সূচকে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। যেহেতু পুলিশের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। তাই পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য ঘুষ, দুর্নীতি বা অপরাধে জড়িত হলে স্বাভাবিকভাবে মানুষ এটা মেনে নিতে পারে না।

যুগের চিন্তা ২৪ কর্তৃক প্রকাশিত
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন